দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দক্ষিণ আফ্রিকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বন্দুক হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় জোহানেসবার্গের কাছে একটি বারে বন্দুকধারীদের হামলায় ১৮ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হন। এর কয়েক ঘণ্টা পর রোববার ভোরে কেপটাউনের কাছে একটি বিনোদনকেন্দ্রের বাইরে আরেক হামলায় ১০ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন।
জোহানেসবার্গের কাছে বারে হামলার ঘটনায় পুলিশ জানায়, আটজন বন্দুকধারী শনিবার সন্ধ্যায় বারে ঢুকে হামলা চালায়। প্রথমে তারা বারের বাইরে থাকা গ্রাহকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে ভেতরেও গুলি চালিয়ে দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ১৮ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
গাউতেং প্রদেশের পুলিশ কমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল টমি মথোমবেনি বলেন, নিহত ও আহতদের মধ্যে ইথিওপিয়া ও লেসোথোর নাগরিকও রয়েছেন। তবে হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের বেশির ভাগই দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক।
হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে ব্যক্তিগত মালামাল নিয়ে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে হামলাটি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। একই সঙ্গে অবৈধ খননকাজে জড়িত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিত্যক্ত খনি ও বর্জ্যস্তূপে অনুমতি ছাড়া খনন একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। অনিরাপদ পরিবেশে এসব খননকাজে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব কাজে জড়িত অনেক শ্রমিকই নথিপত্রহীন অভিবাসী এবং তাদের সংগঠিত অপরাধী চক্র নিয়োগ করে।
এর আগে প্রাদেশিক পুলিশের উপকমিশনার মেজর জেনারেল ফ্রেড কেকানা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, গত মাসে একই এলাকায় একজন নিহত ও আরেকজন আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে হামলাটি হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে তিনি জানান, সন্দেহভাজনদের বিষয়ে পুলিশের কাছে স্পষ্ট ছবি এবং কয়েকজনের নামও রয়েছে।
এদিকে কেপটাউনের কাছে একটি টাউনশিপে রোববার ভোরে বিনোদনকেন্দ্রের বাইরে বন্দুক হামলায় পাঁচজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১১ জন আহত হয়েছেন।
রোববার সকাল পর্যন্ত দুটি হামলার কোনো ঘটনায়ই কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বের অন্যতম উচ্চ হত্যার হার রয়েছে। ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। দেশটিতে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার এবং মাদক ও অবৈধ খননকাজে জড়িত অপরাধী চক্রগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের সংঘাত দীর্ঘদিন ধরেই বন্দুক সহিংসতার অন্যতম কারণ।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনায় দেশটিতে উদ্বেগ বেড়েছে। এর কয়েক দিন আগেই ডারবান শহরের কোয়ামাখুথা টাউনশিপে একটি বাড়িতে বন্দুকধারীদের হামলায় ১১ জন নিহত হন।
ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সংগঠিত অপরাধকে দেশটির গণতন্ত্র, সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। চলতি বছরের শুরুতে সহিংসতা কমাতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এমন এলাকাগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়।
এর মধ্যেই শনিবার জোহানেসবার্গের পূর্বে একুরহুলেনি এলাকায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে ওই এলাকায় মৃত নারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুগুলোর মধ্যে কিছু মিল থাকায় সেখানে কোনো ধারাবাহিক হত্যাকারী সক্রিয় কি না, তা-ও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/